Translation is not possible.
দেশের ইসলামপন্থিদের ওপর অধ্যাপক বেশ ক্ষিপ্ত। তার মতে, একদল মধ্যযুগীয় লোকজন সমাজকে নষ্ট করতে উঠেপড়ে লেগেছে। সকল আধুনিকতা ও প্রগতির পথে তারাই বাধা দিচ্ছে।
বললেন, ছোটবেলায় আমিও রোজা রেখেছি। মসজিদে মিলাদ খেয়েছি। তখন গুড়ের জিলাপি দিত। আহা, সে কী স্বাদ! এখনো মুখে লেগে আছে। কই, তখন তো ধর্ম এত কঠিন ছিল না। আজকাল হুজুররা একে কঠিন বানিয়ে ফেলেছে। আমিও ধার্মিক পরিবারের ছেলে, আমার বাবাও হজ করেছিলেন, কিন্তু তাদের মাঝে ধর্ম নিয়ে উগ্রতা দেখিনি। আমি এগুলো বললেই হুজুররা ক্ষেপে যায়। আমাদের ছাত্রজীবনে বিশ্ববিদ্যালয়ে খুব কম মেয়েই হিজাব পরত। কিন্তু এখন বিশ্ববিদ্যালয়ে গেলে মনে হয় মহিলা মাদরাসায় চলে এসেছি। আধুনিক-বিশ্বে এ ধরনের প্রবণতা মেনে নেয়া যায় না। হিজাবের সাথে আধুনিক বিশ্বের সংঘাত কেন, তার অভূতপূর্ব ব্যাখ্যা দিলেন অধ্যাপক।
'যেসব দেশে হিজাব-নিকাব নেই, সেখানে বিজ্ঞান অনেক উন্নতি করেছে। অনেক বড় বড় বিজ্ঞানী, দার্শনিক, কবি, সাহিত্যিকের জন্ম হয়েছে। কিন্তু আমাদের এখানে কিছুই হয়নি।' বললেন তিনি।
'কিন্তু এই দেশে সবাই তো আর হিজাব-নিকাব করছে না। আপনারা যারা এসবের বিরুদ্ধে, তাদের অবদানটাই-বা কী?'
'আমাদেরকে দুষবেন না। আমাদের হাতে সময় কই? হিজাব-নিকাব বন্ধ করা নিয়েই তো আমাদের ব্যস্ততা। আপনাকে আগেই বলেছি, হিজাব-নিকাব, দাড়ি যেখানে থাকে, বিজ্ঞান সেখানে উন্নতি করতে পারে না। এ জন্য এগুলোর বিরুদ্ধে আমাদের অবস্থান। এই সমস্যাগুলোর সমাধান না হলে আমরা বিজ্ঞানচর্চা করতে পারব না। এগুলো দূর করতে গিয়ে আমরাও বিজ্ঞানচর্চা করার সময় পাচ্ছি না।'
বই: ইবনে বতুতার বাঙ্গালাহ সফর ২.০
লেখক : ইমরান রাইহান
প্রকাশক : Umed Prokash
#ishmumsbookcut
Send as a message
Share on my page
Share in the group