আমার এক উস্তাদ বলতেন, আজকাল পীরেরা ইসলাহী ম্যাপ সামনে রাখেন। কোথায় কোথায় টাওয়ার বসাতে হবে, তার পরিকল্পনা করেন।
টাওয়ার মানে খলীফা। তারা অঞ্চল হিসাব করে খেলাফত দেন। কারণ, খেলাফতের সাথে জড়িত সিলসিলার প্রভাব বিস্তারের বিষয়টিও। এ জন্য দেখবেন, বড় মসজিদের খতীব, বড় মাদরাসার মুহাদ্দিস-তারা সহজেই খেলাফত পেয়ে যান। অনেক সময় তো বাইয়াত হওয়া ছাড়াই পত্রমারফত খেলাফত পাঠানো হয় তাদের।
কিন্তু একজন সাধারণ আলেম-যিনি বড় কোনো প্রতিষ্ঠানের সাথে সম্পৃক্ত নন-তিনি যদি পীরের দরবারে আসেন, তাহলে রাতারাতি খানকাহ হয়ে ওঠে থানভী সিলসিলার দরবার। তাকে পরিপূর্ণ ইসলাহ না করে খেলাফত দেয়া হয় না।
এ জন্য একজন দার্শনিক বলেছিলেন, বড়দের কাছে যেতে হয় নিজের অর্জনসহ। অর্জন দেখালে বড়রা সহজে মূল্যায়ন করেন। আপনার ইসলাহ হলো কি হলো না-সেটা মুখ্য নয়। আপনার প্রভাব কতদূর, সেটাই দেখতে চায় সবাই। খেলাফত এখন প্রাতিষ্ঠানিক ডিগ্রির মতো। আগে একটা খেলাফত পেতে জীবন চলে যেত, এখন একেকজন পকেটে আট-দশটা খেলাফত নিয়ে ঘুরে বেড়ায়। প্রতিষ্ঠিত ভূমিদস্যুরাও আজকাল খলীফা হয়ে ইসলাহী বয়ান করে বেড়ায়।
পীরদের মধ্যেও আছে নানা ক্যাটাগরি। কেউ মামলার তদবির করার জন্য বিখ্যাত, কেউ মুরিদদের বড় অঙ্কের হাদিয়া দিয়ে প্রসিদ্ধ, কেউ ধনকুবেরদের নিয়ে মজলিস করে অভ্যস্ত। একেকজনের কাছে লোকে যায় একেক মাকসাদে। মুরিদরাও সৎ নয়। তাদেরও আছে নানা উদ্দেশ্য। পীররা বোঝেন সব, কিন্তু তাদেরও তো স্বার্থ আছে। ফলে চুপ থেকে উভয়ে উভয়ের পাওনা বুঝে নেয়ার ফিকিরটাই প্রাধান্য পায় দিনশেষে।\'
\'এসব করলে প্রকৃত তাসাওউফ-চর্চা কোথায়? দেশে কি সত্যিকারের কোনো পীর নেই? যার খানকায় গেলে দিল জুড়াবে?\' প্রশ্ন করি।
\'আছেন। অনেকেই আছেন। কিন্তু তাদের দরবারে প্রসিদ্ধির ঝলক নেই। গ্ল্যামার নেই। সেখানে মানুষ যেতে চায় না। কারণ, মানুষও ইসলাহ চায় না। সে চায় এমন দরবার, যেখানে তার ভুল ধরিয়ে দেয়া হবে না। তাকে তার অবস্থানে রেখেই খেলাফত বিলি করা হবে। সবাই চায় প্রসিদ্ধ পীরের মুরিদ হতে।
কারণ, পীরের নাম বেঁচে ব্যবসা বাগানোর উদ্দেশ্য সবারই থাকে কমবেশি। অখ্যাত দরবারে গেলে তো সেই উদ্দেশ্য পূরণ হবে না। এ জন্য দেখবেন, যেখানে প্রকৃত ইসলাহ হয়, সেখানে লোকজনের আনাগোনা কম। টাকাপয়সার ছড়াছড়ি কম। ধনকুবেরদের মার্সিডিজগুলোও সেই দরবারে দাঁড়ায় না। রাজনৈতিক ব্যক্তিরাও সেখানে যাওয়ার প্রয়োজন দেখেন না। প্রসিদ্ধ বক্তা, খতীবরাও সেই দরবারে যায় না।\'
বই: ইবনে বতুতার বাঙ্গালাহ সফর ২.০
লেখক : ইমরান রাইহান
প্রকাশক : Umed Prokash
#ishmumsbookcut
আমার এক উস্তাদ বলতেন, আজকাল পীরেরা ইসলাহী ম্যাপ সামনে রাখেন। কোথায় কোথায় টাওয়ার বসাতে হবে, তার পরিকল্পনা করেন।
টাওয়ার মানে খলীফা। তারা অঞ্চল হিসাব করে খেলাফত দেন। কারণ, খেলাফতের সাথে জড়িত সিলসিলার প্রভাব বিস্তারের বিষয়টিও। এ জন্য দেখবেন, বড় মসজিদের খতীব, বড় মাদরাসার মুহাদ্দিস-তারা সহজেই খেলাফত পেয়ে যান। অনেক সময় তো বাইয়াত হওয়া ছাড়াই পত্রমারফত খেলাফত পাঠানো হয় তাদের।
কিন্তু একজন সাধারণ আলেম-যিনি বড় কোনো প্রতিষ্ঠানের সাথে সম্পৃক্ত নন-তিনি যদি পীরের দরবারে আসেন, তাহলে রাতারাতি খানকাহ হয়ে ওঠে থানভী সিলসিলার দরবার। তাকে পরিপূর্ণ ইসলাহ না করে খেলাফত দেয়া হয় না।
এ জন্য একজন দার্শনিক বলেছিলেন, বড়দের কাছে যেতে হয় নিজের অর্জনসহ। অর্জন দেখালে বড়রা সহজে মূল্যায়ন করেন। আপনার ইসলাহ হলো কি হলো না-সেটা মুখ্য নয়। আপনার প্রভাব কতদূর, সেটাই দেখতে চায় সবাই। খেলাফত এখন প্রাতিষ্ঠানিক ডিগ্রির মতো। আগে একটা খেলাফত পেতে জীবন চলে যেত, এখন একেকজন পকেটে আট-দশটা খেলাফত নিয়ে ঘুরে বেড়ায়। প্রতিষ্ঠিত ভূমিদস্যুরাও আজকাল খলীফা হয়ে ইসলাহী বয়ান করে বেড়ায়।
পীরদের মধ্যেও আছে নানা ক্যাটাগরি। কেউ মামলার তদবির করার জন্য বিখ্যাত, কেউ মুরিদদের বড় অঙ্কের হাদিয়া দিয়ে প্রসিদ্ধ, কেউ ধনকুবেরদের নিয়ে মজলিস করে অভ্যস্ত। একেকজনের কাছে লোকে যায় একেক মাকসাদে। মুরিদরাও সৎ নয়। তাদেরও আছে নানা উদ্দেশ্য। পীররা বোঝেন সব, কিন্তু তাদেরও তো স্বার্থ আছে। ফলে চুপ থেকে উভয়ে উভয়ের পাওনা বুঝে নেয়ার ফিকিরটাই প্রাধান্য পায় দিনশেষে।'
'এসব করলে প্রকৃত তাসাওউফ-চর্চা কোথায়? দেশে কি সত্যিকারের কোনো পীর নেই? যার খানকায় গেলে দিল জুড়াবে?' প্রশ্ন করি।
'আছেন। অনেকেই আছেন। কিন্তু তাদের দরবারে প্রসিদ্ধির ঝলক নেই। গ্ল্যামার নেই। সেখানে মানুষ যেতে চায় না। কারণ, মানুষও ইসলাহ চায় না। সে চায় এমন দরবার, যেখানে তার ভুল ধরিয়ে দেয়া হবে না। তাকে তার অবস্থানে রেখেই খেলাফত বিলি করা হবে। সবাই চায় প্রসিদ্ধ পীরের মুরিদ হতে।
কারণ, পীরের নাম বেঁচে ব্যবসা বাগানোর উদ্দেশ্য সবারই থাকে কমবেশি। অখ্যাত দরবারে গেলে তো সেই উদ্দেশ্য পূরণ হবে না। এ জন্য দেখবেন, যেখানে প্রকৃত ইসলাহ হয়, সেখানে লোকজনের আনাগোনা কম। টাকাপয়সার ছড়াছড়ি কম। ধনকুবেরদের মার্সিডিজগুলোও সেই দরবারে দাঁড়ায় না। রাজনৈতিক ব্যক্তিরাও সেখানে যাওয়ার প্রয়োজন দেখেন না। প্রসিদ্ধ বক্তা, খতীবরাও সেই দরবারে যায় না।'
বই: ইবনে বতুতার বাঙ্গালাহ সফর ২.০
লেখক : ইমরান রাইহান
প্রকাশক : Umed Prokash