আপনাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ আছে, আপনারা কথায় কথায় মানুষকে শ্রেণিশত্রু ট্যাগ দেন, বুর্জোয়ার দালাল বলেন। এমনকি সর্বহারা আন্দোলনের সময় নিছক সন্দেহের বসে অনেক নিরীহ মানুষকেও হত্যা করেছেন আপনারা। আপনাদের কাছে শ্রেণিশত্রু নির্ধারণের মাপকাঠি আসলে কী?\'
\'শ্রেণিশত্রু চেনা খুবই সহজ। যে আপনার সাথে কিছুতে দ্বিমত করে সে আপনার শ্রেণিতে নয়। তার মানে সে শ্রেণিশত্রু। এবার আপনি তাকে দমন করুন। যে এই দমনের বিরোধিতা করবে, সেও শ্রেণিশত্রু। এবার তাকেও দমন করুন। নিকিতা ক্রুশ্চেভ বলেছিলেন...\'
\'আচ্ছা, ক্রুশ্চেভ কী বলেছিলেন সেই আলাপে একটু পরে আসি। সমাজতন্ত্রের বর্তমান পরিস্থিতি সম্পর্কে আপনার মূল্যায়ন কী?\'
\'সত্য বলতে, আমরা কিছুটা হতাশ। আন্তর্জাতিকভাবেও আগের সেই রমরমা পরিস্থিতি নেই। একসময় ধর্মীয় ঘরানার অনেকে আমাদের সাহায্য করেছিল। ইসলাম যে একটি সমাজতান্ত্রিক ধর্ম এবং সমাজতন্ত্র যে মূলত ইসলামেরই অবদান-তা জোর গলায় বলতেন তারা। প্রায় সব ভাষাতেই সমাজতন্ত্র নিয়ে অনেক বইপত্র লেখা হয় তখন। কিন্তু সোভিয়েত ইউনিয়নের পতনের পর তারাও এখন চুপ। এখন আর কাউকে সমাজতন্ত্রের গুণগান গাইতে দেখা যায় না। উল্টো তারা এখন গণতন্ত্র ও ব্যাংককে ইসলামী বানাতে ব্যস্ত। নিয়মকানুন আগেরটাই ফলো করছেন। ইসলামের যেসব বিষয় বাহ্যিকভাবে দেখতে এগুলোর কাছাকাছি মনে হয়, সেগুলো এনে পুরো বিষয়টিকে ইসলামী বানিয়ে দিচ্ছেন তারা। ধার্মিক লোকদের এই পক্ষত্যাগ আমাদের যথেষ্ট সমস্যায় ফেলেছে।\'
\'পক্ষত্যাগের জন্য আপনারাই দায়ী। সমাজতন্ত্রের রমরমা সময়ে মুসলমানদের ওপর এত বেশি অত্যাচার চালিয়েছেন যে, এখন আপনাদেরকে কেউ-ই বিশ্বাস করতে চায় না।\'
\'মানছি আমাদের লোকজনের অনেক ভুল ছিল। কিন্তু এই কারণে আমরা বিশ্বাসযোগ্যতা হারিয়েছি তা সত্য নয়। আমরা আস্থা হারিয়েছি মূলত রাজনৈতিক পতনের কারণে। কমরেড ইবনে বতুতা, শুনতে খারাপ লাগলেও মনে রাখবেন, সবাই চায় বিজয়ীর পেছনে চলতে। সমাজতন্ত্র যখন বিজয়ী ছিল, তখন তারা সমাজতন্ত্রকে আদর্শ মেনে নিতে প্রস্তুত ছিল। এখন পশ্চিম জয়ী, তাই তাদের আনুগত্যের মাঝেই সুখ খোঁজা হচ্ছে। যেসব দেশ গত একশ বছর ধরে মুসলিম-বিশ্বে একের পর এক গণহত্যা চালিয়েছে, ফিলিস্তিন সমস্যার জন্য তাদেরকেই তো মুরুব্বি মানা হচ্ছে। যে জাতিসংঘ প্রায় এক শতাব্দী ধরে প্রতারণা করছে, সেই তাদের সাথে সংলাপ করেই সমাধান খোঁজা হচ্ছে। কই, তখন তো ইসলামবিদ্বেষের কারণে তাদের ত্যাগ করার কথা উঠছে না। বুঝি, সবই বুঝি।\'
বই: ইবনে বতুতার বাঙ্গালাহ সফর ২.০
লেখক : ইমরান রাইহান
প্রকাশক : Umed Prokash
#ishmumsbookcut
আপনাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ আছে, আপনারা কথায় কথায় মানুষকে শ্রেণিশত্রু ট্যাগ দেন, বুর্জোয়ার দালাল বলেন। এমনকি সর্বহারা আন্দোলনের সময় নিছক সন্দেহের বসে অনেক নিরীহ মানুষকেও হত্যা করেছেন আপনারা। আপনাদের কাছে শ্রেণিশত্রু নির্ধারণের মাপকাঠি আসলে কী?'
'শ্রেণিশত্রু চেনা খুবই সহজ। যে আপনার সাথে কিছুতে দ্বিমত করে সে আপনার শ্রেণিতে নয়। তার মানে সে শ্রেণিশত্রু। এবার আপনি তাকে দমন করুন। যে এই দমনের বিরোধিতা করবে, সেও শ্রেণিশত্রু। এবার তাকেও দমন করুন। নিকিতা ক্রুশ্চেভ বলেছিলেন...'
'আচ্ছা, ক্রুশ্চেভ কী বলেছিলেন সেই আলাপে একটু পরে আসি। সমাজতন্ত্রের বর্তমান পরিস্থিতি সম্পর্কে আপনার মূল্যায়ন কী?'
'সত্য বলতে, আমরা কিছুটা হতাশ। আন্তর্জাতিকভাবেও আগের সেই রমরমা পরিস্থিতি নেই। একসময় ধর্মীয় ঘরানার অনেকে আমাদের সাহায্য করেছিল। ইসলাম যে একটি সমাজতান্ত্রিক ধর্ম এবং সমাজতন্ত্র যে মূলত ইসলামেরই অবদান-তা জোর গলায় বলতেন তারা। প্রায় সব ভাষাতেই সমাজতন্ত্র নিয়ে অনেক বইপত্র লেখা হয় তখন। কিন্তু সোভিয়েত ইউনিয়নের পতনের পর তারাও এখন চুপ। এখন আর কাউকে সমাজতন্ত্রের গুণগান গাইতে দেখা যায় না। উল্টো তারা এখন গণতন্ত্র ও ব্যাংককে ইসলামী বানাতে ব্যস্ত। নিয়মকানুন আগেরটাই ফলো করছেন। ইসলামের যেসব বিষয় বাহ্যিকভাবে দেখতে এগুলোর কাছাকাছি মনে হয়, সেগুলো এনে পুরো বিষয়টিকে ইসলামী বানিয়ে দিচ্ছেন তারা। ধার্মিক লোকদের এই পক্ষত্যাগ আমাদের যথেষ্ট সমস্যায় ফেলেছে।'
'পক্ষত্যাগের জন্য আপনারাই দায়ী। সমাজতন্ত্রের রমরমা সময়ে মুসলমানদের ওপর এত বেশি অত্যাচার চালিয়েছেন যে, এখন আপনাদেরকে কেউ-ই বিশ্বাস করতে চায় না।'
'মানছি আমাদের লোকজনের অনেক ভুল ছিল। কিন্তু এই কারণে আমরা বিশ্বাসযোগ্যতা হারিয়েছি তা সত্য নয়। আমরা আস্থা হারিয়েছি মূলত রাজনৈতিক পতনের কারণে। কমরেড ইবনে বতুতা, শুনতে খারাপ লাগলেও মনে রাখবেন, সবাই চায় বিজয়ীর পেছনে চলতে। সমাজতন্ত্র যখন বিজয়ী ছিল, তখন তারা সমাজতন্ত্রকে আদর্শ মেনে নিতে প্রস্তুত ছিল। এখন পশ্চিম জয়ী, তাই তাদের আনুগত্যের মাঝেই সুখ খোঁজা হচ্ছে। যেসব দেশ গত একশ বছর ধরে মুসলিম-বিশ্বে একের পর এক গণহত্যা চালিয়েছে, ফিলিস্তিন সমস্যার জন্য তাদেরকেই তো মুরুব্বি মানা হচ্ছে। যে জাতিসংঘ প্রায় এক শতাব্দী ধরে প্রতারণা করছে, সেই তাদের সাথে সংলাপ করেই সমাধান খোঁজা হচ্ছে। কই, তখন তো ইসলামবিদ্বেষের কারণে তাদের ত্যাগ করার কথা উঠছে না। বুঝি, সবই বুঝি।'
বই: ইবনে বতুতার বাঙ্গালাহ সফর ২.০
লেখক : ইমরান রাইহান
প্রকাশক : Umed Prokash